লম্বা হওয়ার বাসনা ছেলে বা মেয়ে সবার মনেই থাকে। যারা বেশ ভালো লম্বা তাদেরও মনে হয় আরও ১-২ ইঞ্চি লম্বা হতে পারলে বেশ ভালো মানাত! আসলে আমরা কতটুকু লম্বা হবো তা আমাদের বংশগতি থেকেই নির্ধারিত হয়।

আমাদের পূর্ব-পুরুষরা লম্বা হলেও আমরা যদি অপুষ্টিতে ভুগি তবে আমাদের বৃদ্ধি ঠিকভাবে হবে না।

তাই ছোটকাল থেকেই এ ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে। ৩টি জিনিস লম্বা হতে সাহায্য করবে : 

১. পুষ্টিকর খাবার 

২. নিয়মিত ব্যায়াম

৩. পর্যাপ্ত বিশ্রাম


কী কী থাকা দরকার খাবার তালিকায়?

মিনারেলস : পর্যাপ্ত পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের মিনারেল আমাদের খাবার তালিকায় থাকা উচিত।

আমাদের দেহে প্রতিটি কাজে মিনারেলের ভূমিকা রয়েছে। হাড়ের গঠন ও বৃদ্ধিতেও মিনারেলের মুভিটা রয়েছে।

বিষেশভাবে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস যেন পরিমাণ মতো গ্রহণ করা হয় তা লক্ষ্য রাখতে হবে।  

ক্যালসিয়ামের উৎস : দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ছোট মাছ, খেজুর, বাধাকপি, ফুলকপি, ব্রোকলি, পালংশাক, পুঁই শাক ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম আছে।

ফসফরাসের উৎস : দুগ্ধজাত খাবার, মাছ, মাংস, এমনকি সবজিতেও ফসফরাস রয়েছে।

আয়রনের উৎস : আয়রন পাওয়া যায় খেজুর, ডিমের কুসম, কলিজা, গরুর মাংসে। ম্যাগনেসিয়াম আছে আপেল, জাম্বুরা, ডুমুর, লেবু ইত্যাদিতে। জিন্ক পাওয়া যায় ডিম, সূর্যমূখীর বীচিতে।


ভিটামিন:

ভিটামিন আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।আমাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের ভিটামিনই বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও ফল থেকে পাওয়া যায়।

কিন্তু খাবারের ভিটামিন দেহে কতটুকু গৃহীত হচ্ছে তা বোঝা বেশ জটিল। তাই বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

ভিটামিন-বি১ এর উৎস : চীনা বাদাম, লাল চাল ও গমে।

ভিটামিন-বি২ এর উৎস : মাছ, ডিম, দুধে।

ভিটামিন-বি৬ এর উৎস : বাধাকপি, কলিজা, গরুর মাংসে। 

ভিটামিন ‘ডি’ এর উৎস : মাছের তেল, দুগ্ধজাত খাবারে।

ভিটামিন ‘ই’ এর উৎস : ডিম, সয়াবিন, গমে।

ভিটামিন ‘এ’ এর উৎস : ডিমের কুসুম, গাজর, দুধ ও কলিজায়।


প্রোটিন : হাড়ের বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাংসপেশিও বাড়ানো প্রয়োজন লম্বা হওয়ার জন্য। মাংস পেশির বৃদ্ধি ও মজবুত হওয়ার জন্য প্রোটিনের প্রয়োজন। খাবার তালিকায় প্রোটিনের উৎস যেমন- মাছ, মাংস, ডিম রাখতে হবে।

বিভিন্ন ডাল, মটরশুটি, শিমের বিচি, কাঁঠালের বিচি ইত্যাদিতেও প্রোটিন থাকে। খাবার তালিকায় সয়া প্রোটিন, বিভিন্ন রকমের প্রোটিন সেইক যোগ করতে পারেন।

কার্বোহাইড্রেট : অনেকেই লম্বা হওয়ার জন্য কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট জাতীয় খাবার বেশি গ্রহণ করে থাকেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, বেশি পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট লম্বা হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

কারণ অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ মানে রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ। এর ফলে ইনসুলিন নামক হরমোনও নিঃসৃত হবে বেশি। ইনসুলিন দেহের Growth হরমনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। তাই খাবার তালিকায় লাল আটা, লাল চাল, ওট ইত্যাদি রাখুন ময়দা, সাদা আটা, পলিশ চালের পরিবর্তে।

পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে, কম হলেও দুই লিটার প্রতিদিন।


লম্বা হওয়ার জন্য যা যা করতে হবে :

১. দৈনিক আট ঘণ্টা ঘুমের অভ্যাস তৈরি করুন।

২. খেলাধূলা না করা-বাস্কেট বল, ভলিবল খেলুন।

৩. দড়ি লাফের মতো সাধারণ ব্যায়াম শুরু করুন।

৪. অপুষ্টি-পুষ্টিকর ও সুষম খাবার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৫. দেহের কোনো অংশে অসঙ্গতি থাকলে, ফিজিওথেরাপিস্টের সাহায্য নিতে হবে।

ত্যাগ করতে হবে মদ্যপান ও ধূমপানসহ সব ধরনের মাদকের অভ্যাস। কারণ এগুলো দেহের হরমোনের ব্যালান্স নষ্ট করে।